কুলাউড়ায় বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করেই জমে উঠেছে ‘ঈদ বাজার’

এস আর অনি চৌধুরী,কুলাউড়া থেকে: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শহরের মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। করোনাভাইরাস আতঙ্ককে উপেক্ষা করে উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে ছিলো ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। শহরে যানবাহনও ছিলো প্রচুর।

স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা না করেই ধাক্কাধাক্কি করে চলছে কেনাকাটা। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন তারা।

করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মতো গোটা বাংলাদেশ যখন আতঙ্কে তখন কুলাউড়ার মার্কেট গুলোতে আসা মানুষের কারও মাঝে নেই আতঙ্কের কোনো ছাপ। মার্কেটে ঢুকলে মনে হবে দেশে করোনা নামক কিছুই নেই কুলাউড়ায়।

ইতিমধ্যে কুলাউড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮জন। এর মধ্যে ৪জন সুস্থ হয়েছেন। বাকি ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। মাইকিং সহ নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার অব্যাহত থাকলেও তা মানা হচ্ছে না কুলাউড়া হাট-বাজারগুলোকে।

সরেজমিনে রবিবার (১৭ মে) কুলাউড়া শহরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, শপিংমলসহ অলি গলিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব না মেনে এবং অনেকেই মাস্ক ব্যবহার না করে কেনাকাটা করছেন।

Eid

সামাজিক-শারীরিক দূরত্বতো দুরের কথা মানুষ একে অপরের সাথে উৎসবমুখর পরিবেশে মেলামেশা করছেন।সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জীবানুনাশক ব্যবহার করা, মাক্স ও হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার করাসহ সরকারি সিদ্ধান্তের মোট আটটি শর্তের একটিও মানছে না অনেকেই। বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করেই, জমে উঠেছে কুলাউড়ার ঈদ বাজার।

তবে কিছু কিছু মার্কেট ও দোকানে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও বেশিরভাগ মার্কেট ও দোকানে স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা দেখা যায়নি। কাপড়ের দোকানে বেশি মহিলা ও ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের লক্ষ করা যায় ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা জানান, ঈদের আর মাত্র ৭/৮ দিন বাকি। ঈদে বাচ্চাদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে হবে। তাই নতুন কাপড় কিনতে এসেছি। কেনাকাটা করতে এসে তো অনেকসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যায় না।

অন্যদিকে অনেক ব্যবসায়ী জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ব্যতীত সকল শপিংমল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা উচিত।

এ প্রসঙ্গে কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজরাতুন নাঈম বলেন, শপিংমলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতিষ্ঠানের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা, ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের মাস্ক পরা, হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার করা, চার ফুট দরত্বে ক্রেতাদের অবস্থান নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়াসহ ৮ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে মেনে চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ৮ দফা নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।