কোম্পানীগঞ্জে খাল ভরাট করে দখল, জলাবদ্ধতা-দুর্ভোগ

আবিদুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ থেকে: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ‘মরা ধলাই খাল’ ভরাট করে বে-দখল হয়ে গেছে। এজন্য সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। ভোলাগঞ্জ থেকে রুস্তমপুর, নোয়াগাঁও, পাড়ুয়া হয়ে টুকার বিল পর্যন্ত পুরাতন ধলাই নদীর (বর্তমানে মরা ধলাই খাল নামে পরিচিত) দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। খালটি দখল হওয়ায় এর পাশ দিয়ে জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি এরই মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মরা ধলাই খাল সংলগ্ন ৫ থেকে ৬টি গ্রামে বসবাস করেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব এলাকার পয়ঃনিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম এ খাল দখল করে অপরিকল্পিতভাবে দালানকোঠা ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। উল্লেখিত স্থানে অবৈধ দখলদারের সংখ্যা শতাধিক। অবৈধভাবে দখল করা জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৩৭ একর। নদীর আশপাশের এ সরকারি ভূমি বেদখলে যাওয়ায় তা সংকুচিত হয়ে পানির প্রবাহ ব্যাহত হয়ে এটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, খালটি দখলদারদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করে দ্রুত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে টানা বৃষ্টিপাতের সময় বাড়ি-ঘরে পানি উঠবে। তখন ভোগান্তি আরও বাড়বে।
সূত্র জানায়, এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরা ধলাই খালের ৬০ জন দখলদারকে চিহ্নিত করে উপজেলা ভূমি অফিস। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখল থেকে তাদের কেন উচ্ছেদ করা হবে না মর্মে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর এ ব্যাপারে আর কোনও অগ্রগতি হয়নি।
ভোলাগঞ্জ গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন, পাড়ুয়ার ইব্রাহিম আলী, রুস্তমপুরের আলী আসকর ও নোয়াগাঁও গ্রামের আবুল কাশেম জানান, মরা ধলাই খালটি রক্ষায় তারা একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা বলেন, খালটি রক্ষা করা না গেলে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে বন্ধ হয়ে গেছে খালটি। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের সভায় খালটি দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। জনস্বার্থে সরকারি খালটি পুনরুদ্ধার করা দরকার।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচার্য বলেন, খালটি উদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে। এ সংক্রান্ত নথি ডিসি অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে, এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সরকারি খালটি দখলমুক্ত করে সংস্কারের দাবি জানান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শামীম আহমদ। তিনি বলেন, এ খালটি এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ। খালটি সংস্কার হলে যেমন দূর হবে জলাবদ্ধতা, তেমনি খালটি তার রূপ-সৌন্দর্য ফিরে পাবে।