চাকুরী হারানোর আতঙ্ক নগরজুড়ে !

মাসুদ আহমদ রনি : করোনাজনিত লকডাউনের কারণে সিলেটে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে চলছে কর্মী ছাটাই। ব্যবসায় ক্ষতির অজুহাতে খরচ কমাতে অনেক প্রতিষ্ঠানই কর্মী ছাটাই করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আর কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বেতন ভাতা দিচ্ছে না মালিক পক্ষ। এতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে চাকরির বাজারে।

নগরীর অনেক শপিংমল ও ফ্যাশন হাউজের মালিকরা এবারের ঈদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার অজুহাতে কর্মীদের বেতন ও ঈদ বোনাস দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তাদের রোজগার বন্ধ রয়েছে আড়াই মাস ধরে। সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে কোন কোন বেসরকারি হাসপাতালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন এমন ডাক্তার ও ক্লিনিক্যাল স্টাফরাও বেতন পাচ্ছেন না দুই মাস ধরে। উল্টো বেতনের দাবি তোলায় চাকরিও হারিয়েছেন কেউ কেউ।
বেতন-ভাতা না দিয়ে কর্মীদের ছাটাই করার অভিযোগ ওঠেছে ডায়াগনেস্টিক সেন্টার ল্যাব এইড সিলেট শাখার বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির ৮০ জন কর্মী গতকাল রোববার ল্যাব এইড’র সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা বলছেন, চাকুরিচ্যুত নয়, কাজ না থাকায় কর্মীদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। সবার বেতন-বোনাসও প্রদান করা হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ৮০ জন কর্মীকে দুই মাস ধরে বেতন দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। বেতন না দিয়েই চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে। ফলে ঈদের আগমূহূর্তে পরিবার নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন তারা।
নগরীতে এমন অনেক আছে যারা শুধু চাকুরি সূত্রে শহরে বাস করছেন। আজ চাকরি নেই। শহরে থাকার উপায়ও নেই স্বল্প বেতনের কর্মরতদের। নেই হাতে জমানো টাকাও। কিছু যা ছিল এর মধ্যেই হয়তো শেষ হয়ে গেছে। এখন কি করবে, কি খাবে এমন অনিশ্চয়তায় অনেক পরিবার!
চাকুরি নিয়ে সংকটে পড়া জনাদশেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা বলেন, বিপদের সময় যখন নিজ প্রতিষ্ঠান কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত, তখন অনেক প্রতিষ্ঠানই বিরূপ আচরণ করছে। এতে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাদের জীবন ও জীবিকা। অনেকেই আছেন যারা মধ্য বয়সে অন্য কোথাও চাকুরি জুটাতে পারবেন না। তাদের দুশ্চিন্তা আরো প্রকট।
জানাগেছে, সিলেটের অধিকাং প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কর্মীদের মাসিক বেতনের বাইরে প্রভিডেন্ড ফান্ড, গ্র্যাচুয়িটির মতো কোন সুবিধা নেই। তার উপর বিনা নোটিশে বা শর্ট নোটিশে চাকুরি থেকে বাদ দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। করোনাকালে কোন প্রতিষ্ঠান যাতে কর্মীদের চাকুরিচ্যুত না করে সেজন্য খোদ প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুশিয়ারী সত্ত্বেও তা মানছে না অনেক প্রতিষ্ঠানই। এ অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য সরকারের একটি বিশেষ সেল গঠনের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।