‘নিয়ম ভেঙে’ পাঠাকান্ডে রনজিতসহ সব আসামীর জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বহুল আলোচিত পাঠাকান্ডের মামলায় জামিন পেয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট রনজিত সরকারসহ ১০ আসামী। এদের মধ্যে কারাগারে আটক দুজনকেও জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান রনজিতসহ অন্য আসামীরা। এসময় তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১২ মে সিলেট বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। 

এদিকে,  প্রথা ভেঙ্গে রনজিতকে জামিন আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির একজন প্রাক্তন সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে লকডাউনের কারণে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র কারাগারে আটক থাকা আসামীদের জামিন আবেদনের জন্য ভার্চুয়াল আদালত চালু করা হয়েছে। আর ছুটির দিনে গ্রেপ্তার হওয়া আসামীদের জন্য একটা স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কাজ করে, কিন্তু সেখানে আসামীর আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়ার সুযোগ নেই। অথচ, রনজিতের মামলার ক্ষেত্রে  প্রথা লঙ্ঘন করে আমলী আদালতে জামিন আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে, এক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রনজিতের আইনজীবী এডভোকেট পৃথ্বিশ দত্ত।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সিলেট ওয়াচকে বলেন, ‘সাধারণত ছুটিরদিনে আমলী আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, বেইল পাওয়ারতো প্রশ্নই আসে না। তবে, শুনেছি আসামী আইন মন্ত্রণালয়ের একটা বিশেষ পারমিশন নিয়ে এসেছেন। এমনটি হলে আমার কিছু বলার নেই।’
উল্ল্লেখ্য, গত ১২ মে নগরীর টিলাগড়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ওইদিন দুপুরে কয়েকজন যুবক প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে আওয়ামিলীগ নেতা রনজিত সরকারের খাওয়ার জন্য একটি পাঠা (ছাগল) ফ্রি প্রদানের জন্য বলে। কর্মকর্তা এ আবদারে সাড়া না দেয়ায় গালিগালাজ করে চলে যায় ওই যুবকরা। কিছুক্ষণ পর রনজিত সরকার ২০/২২ জন যুবককে সাথে নিয়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসে যান। এবং পাঠা না দেয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিগালাজ ও মারধর করেন।