বেতন পাচ্ছেন না সিলেটের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা

মাসুদ আহমদ রনি: করোনা সংকটের সময় শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে সিলেটের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্বিবদ্যালয়। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়েছে অর্ধেক বেতন। সিলেটের চারটি বেসরকারি বিশ্বিবদ্যালয়ের কোনটিতেই দেয়া হয়নি ঈদ বোনাস। এনিয়ে হতাশা বিরাজ করছে শিক্ষক- কর্মচারীদের মাঝে। যদিও চাকরির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজী হচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক- কর্মকর্তা- কর্মচারীরা মার্চ মাসের বেতন পেয়েছেন মাত্র দুদিন আগে। এপ্রিলের বেতন হয়নি এখনও। মে মাস শেষ হতে চললেও এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করা হয়নি অর্থ সংকটের অজুহাতে। আর ঈদুল ফিতরের উৎসব বোনাসের আশাই ছেড়ে দিয়েছেন শিক্ষক- কর্মচারীরা।
এদিকে, বিশিষ্ট শিল্পপতি রাগিব আলীর মালিকানাধীন লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক- কর্মচারীরা গত মাসের বেতন এবং ঈদুল ফিতরের উৎসব বোনাস পাননি ১৯ মে (২৫ রমজান) পর্যন্ত সিলেট ওয়াচের এমন অনুসন্ধানের পর গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে জনসংযোগ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ২১ মে ঈদ বোনাস ও বেতন দেয়া হয়েছে বলে জানান।
সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির একজন বিভাগীয় প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট ওয়াচকে বলেন, বেতন- বোনাস না পাওয়ায় অনেক শিক্ষকেরই এবারের ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে। করোনাকালে মালিকপক্ষের এমন বিমাতাসুলভ আচরণ তাদের হতাশ করেছে বলেও জানান এ শিক্ষক। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রক্টর এডভোকেট আব্বাস উদ্দিন জানিয়েছেন, করোনার জন্য মাসিক বেতন ও সেশন ফি পরিশোধে ছাত্র-ছাত্রীদের চাপ দেয়া হয়নি। যে কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেতন পরিশোধ করেনি। তাই, অর্থ সংকটে পড়ে শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন ভাতা সময়মত পরিশোধ করা যায়নি। তবে, ঈদের পর বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।
বেতন- বোনাস না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি হতাশায় ভুগছেন কম বেতনের কর্মচারীরা। “নিয়মিত বেতন পেয়েও পরিবারের ভরণপোষন করতে যেখানে আমাদের হিমসিম খেতে হয়, সেখানে বেতন ছাড়া কিভাবে চলবো?”- ক্ষোভের সঙ্গে বলছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির একজন ড্রাইভার। “আমাদের মালিক দেশের বিখ্যাত একজন দানবীর, করোনাকালে তিনি তার রাগিব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন থেকে লাখ লাখ টাকা ত্রাণ বিতরণ করছেন শুনেছি। কিন্তু আমাদের বেতন-বোনাসের টাকাগুলো পরিশোধ না করে এ দান-খয়রাতের কি কোন মূল্য আছে?”- প্রশ্ন রাখেন এ কর্মচারী।
এদিকে, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ঈদের আগে আর কোন বেতন বোনাস দেয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: মনিরউদ্দিন। সিলেট ওয়াচ এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইউনিভার্সিটির ফান্ডে কোন টাকা নেই। জুন-জুলাইয়ে ইউনিভার্সিটি খুললে ছাত্রদের বেতন পেলে আমরা শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করবো।

এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম নর্থ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও ঈদের বোনাস দেয়ার কোন আলামত এখনও নেই। বেতন বোনাস পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক নাইম আলীমুল হায়দার সিলেট ওয়াচকে জানান, এই কঠিন সময়েও ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষ আমাদের বেতন পরিশোধ করেছে। এজন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞাতাও জানান।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও অনলাইনে শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। সে অনুযায়ী এ মহামারিকালেও ক্লাস- পরীক্ষা নিচ্ছেন বলে জানান কয়েকজন শিক্ষক। শিক্ষা কার্যক্রম চালালেও বেতন-ভাতা না পেয়ে অনেক শিক্ষকই মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।