আকবরসহ অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে : রায়হানের মা

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান আহমদের মা বলেছেন, আমার ছেলে হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবরসহ অন্য অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে আমরাও লাশ হবো।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশন শুরু করেন সালমা বেগমের পরিবারের সদস্যরা। অনশনে থাকা অবস্থায় দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি এমনটি বলেন।

রায়হানকে নির্যাতনের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই অনশন শুরু করেছেন নিহতের মাসহ পরিবারের সদস্যরা।

মা সালমা বেগম বলেন, ঘটনার ১৪ দিুন পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল অভিযুক্ত আকবর গ্রেপ্তার হয়নি। সারা সিলেটের মানুষ রাস্তায় নেমে আকবরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে। তবু তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এতে আমরা ক্ষুব্ধ।  আকবর ছাড়াও বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়া সকল পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তরের দাবিতে আমরা আজ থেকে অনশন শুরু করেছি। তাদের গ্রেপ্তার করার পূর্ব পর্যন্ত অনশন চলবে।

তিনি বলেন, এই ফাঁড়িতেই রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাই এই ফাঁড়ির সামনেই আমরণ অনশণ শুরু করেছি। এছাড়া ছেলে হত্যার বিচার চাওয়ার আর কোনো পথ খোলা নেই আমার।

অনশনে রায়হানের পরিবারের সদস্য-স্বজনরা ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন।

গত ১১ অক্টোবর রায়হানকে হত্যার পর থেকেই পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে টানা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছে। রায়হান হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে এরআগে সংবাদ সম্মেলনকরে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন মা সালমা বেগম। তাতেও কাজ না হওয়ায় আজ থেকে অনশন শুরু করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর (রোববার) ভোরে রায়হান আহমদ (৩৩) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ার এক যুবক নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে প্রচার করা হয়, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান। তবে বিকেলে পরিবারের বক্তব্য পাওয়ার পর ঘটনা মোড় নিতে থাকে অন্যদিনে। পরিবার দাবি করে, সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

ওই রাতেই পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। পরদিন রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আল মামুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট মহানগর পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতাও পায় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি জানতে পারে রোববার ভোর ৩টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সুস্থ অবস্থায় রায়হান আহমদকে আনা হয় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে। সেখানে ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রায়হানকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে মারা যান তিনি।

রায়হান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।