করোনা আক্রান্ত রোগী ও লাশ বিনামূল্যে পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করলো শেইড ট্রাস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী-লাশ বিনামূল্যে পরিবহনের জন্য এবার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করলো সিলেট হেলথ ডেভেলপম্যান্ট এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট (শেইড)। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে নগরীর ইউনাইটেড সেন্টারে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ মে থেকে সিলেটের বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইনের উদ্যোগে চালু হয় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। ভাড়াকৃত এ অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৬৪ জন করোনা আক্রান্ত/উপসর্গের রোগী পরিবহন করা হয়েছে। এ টিমের সাথে জড়িত স্বেচ্ছাসেবকরা চারটি লাশের জানাজা ও দাফন করেছেন। ৫টি লাশ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শেইড ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, ভাষা সৈনিক ও কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেন, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে আজ থেকেই আমাদের ট্রাস্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। যদিও এর আগ থেকেই আমাদের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অসহায় মানুষকে সেবা দেয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিই আমাদের লক্ষ্য। এ ট্রাস্টের সহযোগিতায় সবাই এগিয়ে আসবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শেইড ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক পরিচালক মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত/উপসর্গের রোগীদের পরিবহন করা হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও কৃষি নিয়ে কাজ করাও আমাদের লক্ষ্য। এ ট্রাস্টের মাধ্যমে গরীব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা হবে। স্বাস্থ্য সেবার খাতকে আরো এগিয়ে নিতে যেতে একটি অলাভজন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের। সর্বোপরি আর্থ-সামাজিক ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, তাদের বহরে দুটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত আছে। শিগগিরই তাদের বহরে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।
শেইড-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইন জানান, করোনা মহামারি শুরু হবার পর গত ৫ মে থেকে ব্যক্তি উদ্যোগে তাদের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কার্যক্রম চালু হয়। এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৬৪ জন রোগী পরিবহন করা হয়েছে। চারটি লাশের জানাজা ও দাফন হয়েছে। ৫টি লাশ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ সার্ভিসকে স্থায়ী রুপদান করতে ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগের প্রত্যেকটি উপজেলায় ট্রাস্টের সার্ভিস সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, আর্ত মানবতার সেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বৃহত্তর পরিসরে ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে শেইড ট্রাস্ট। এখন থেকে তাদেও চলমান ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সাথে শেইড ট্রাস্টের ক্রয়কৃত আরো ১টি এ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন-শেইড ট্রাস্টের ট্রাস্টি
দুবাই প্রবাসী আব্দুল মজিদ মুজিব, ভাইস চেয়ারম্যান আরশ আলী গণি, সৌদি আরবের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কাপ্তান হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান, কার্যকরী সদস্য মাওলানা নেহাল আহমদ, মাওলানা আহমদ বিলাল, হেলাল আহমদ, শাফী আহমদ, আক্তার হোসেন রাসেল, মাহফুজুল ইসলাম ও শাহেদ আহমদ প্রমুখ।
জানা গেছে, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানকে ট্রাস্টের সভাপতি করা হয়েছে। ট্রাস্টের মোট সদস্য সংখ্যা ১৪। এর মধ্যে কয়েকজন প্রবাসী সমাজহিতৈষী ব্যক্তি রয়েছেন। করোনা মহামারির মধ্যে রোগী/লাশ পরিবহনের ক্ষেত্রে বিপদে পড়া মানুষের জন্য এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দিনরাত ২৪ ঘন্টা এ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদান করা হবে। সার্বক্ষণিক ০১৭২৮-৭৮০২২২, ০১৭১৬-২০১৩০৭ ও ০১৭৭০-১৩০২৩৩ এ তিনটি মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে এ সেবা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।