ছেলে হত্যার সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রায়হানের মা

ছেলে হত্যার বিচার নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন পুলিশি নিয়ৃাতনে নিহত রায়হান আহমদের মা সালামা বেগম। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। এসময় রায়হানের দুই মাস বয়সী মেয়েকেও সাথে নিয়ে আসেন তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলামের কাছে নিজের ছেলে হত্যার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন সালামা বেগম। এসময় জেলা প্রশাসক সুষ্ঠ বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রায়হানের মাকে নিয়ে যান আওয়মী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিটি করপোরেশনের স্খানীয় কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান, সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ইলিয়াসুর রহমান, তৌফিকুল হাদী, আওয়ামী লীগ নেতা জগদিশ দাশ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর (রোববার) ভোরে রায়হান আহমদ (৩৩) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ার এক যুবক নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে প্রচার করা হয়, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান। তবে বিকেলে পরিবারের বক্তব্য পাওয়ার পর ঘটনা মোড় নিতে থাকে অন্যদিনে। পরিবার দাবি করে, সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

ওই রাতেই পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। পরদিন রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আল মামুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট মহানগর পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতাও পায় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি জানতে পারে রোববার ভোর ৩টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সুস্থ অবস্থায় রায়হান আহমদকে আনা হয় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে। সেখানে ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রায়হানকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে মারা যান তিনি।

রায়হান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।