জগন্নাথপুরে মেয়ের সন্ধান না দেয়ায় বাবাকে তুলে নিয়ে মারধর, আটক ৪

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক তরুণীর খোঁজে এসে তাকে না পেয়ে তার বাবাকে তুলে নিয়ে গিয়ে রড দিয়ে পিটিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। সোমবার রাতে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড গোতগাঁও গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে এর আগে এই তরুণীকেই অপহরণ করে কয়েকদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে কয়েকজন যুবক।

৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ নির্যাতনের পর স্থানীয়দের ধারণ করা একটি ভিডিওতে নির্যাতনের বর্ণনা দেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্ত চার জনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলেন— লিটন মিয়া (৩০), আকাই মিয়া (২৭), আলম মিয়া (২৮) ও দিলাক মিয়া (২৫)। তবে, এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত উপজেলার গুতগাঁওর শামীম মিয়াকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে বিয়ের পর ছাড়াছাড়ি হলে এক সন্তান নিয়ে বৃদ্ধের ওই মেয়ে জগন্নাথপুরের বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকেই শামীম মিয়া ওই তরুণীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন এবং প্রায় এক মাস আগে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কিছুদিন আটক রেখে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে মেয়েকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের এক বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠিয়ে দেওয়ার পর সোমবার রাতে আবারও মেয়েটির খোঁজে আসে শামীম ও তার সহযোগীরা। পরে মেয়েকে না পেয়ে বৃদ্ধকে নির্যাতন করে তারা।

বৃদ্ধ বাবার অভিযোগ যে, মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি, বিচারও পাননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে চার জনকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে আটকে অভিযান চলছে। আর বৃদ্ধের মেয়েকেও নিয়ে এসেছি আমরা। বিস্তারিত ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ এলাকায় শামীম একজন সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। থানায় বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে তার নামে।