দক্ষিণ সুনামগঞ্জে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকেঃ মহামারি কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছরের ১৪ই মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে বন্ধ হয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১০টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল। তখন থেকেই বন্ধ আছেসকল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন। স্কুল বন্ধ থাকার কারণ দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার মধ্যদিয়ে সময় কাটাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ৮০ জনেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী। তাই, এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা চাইছেন সরকারের বিশেষ সহায়তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের একাধিক শিক্ষক জানান, মফস্বল এলাকার যে ক’টা
কিন্ডার গার্টেন স্কুল আছে সেগুলোতে বেতনের নামে কর্তৃপক্ষ যা দেয় তা পরিশ্রমের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তবু যারা শিক্ষকতা করছেন, এই সামান্য বেতনে টানাটানি করে কোনো রকমে চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাদের জীবনযাত্রা। ‘শিক্ষকতা মহান পেশা’ এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে নামমাত্র বেতনে কাজ করে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু করোনা ভাইরাসে গত মার্চ মাস থেকে উপজেলায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় বেতনও বন্ধ হয়ে আছে তাদের।

তার উপর দফায় দফায় বন্যা ‘মরার উপর খড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য। এমন সময় যদি বেতনটা নিয়মিত পেতেন তাহলে হয়তো কিছুটা স্বস্তিতে থাকতেন পরিবার নিয়ে। আবার কোনো কোনো শিক্ষক অথবা কর্মচারীর সংসারই চলতো শুধু এই বেতনে।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চক্ষুলজ্জায় না পারছেন কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন চাইতে, না পারছেন সহ্য করতে। তারা জানান, সরকার চাইলেই আমাদের মতো শিক্ষকদের প্রতি মানবিক হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন। ঘোষণা করতে পারেন বিশেষ প্রণোদনা। আমরা সরকারের কাছে বিশেষ প্রণোদনার দাবি করছি।

জানা যায়, উপজেলার পাথারিয়ায় প্রভাতী কিন্ডার গার্টেন, সানরাইজ কিন্ডার গার্টেন, পশ্চিম পাগলায় মর্নিং বার্ড কিন্ডার গার্টেন, রাইজিং সান কিন্ডার গার্টেন, নোয়াখালী বাজারে শাহ্ জালাল (র.) প্রি-ক্যাডেট স্কুল, ডুংরিয়ায় মছকু ম্যামোরিয়াল চাইল্ড কেয়ার একাডেমি, আক্তাপাড়া মিনাবাজারে আল হেরা একাডেমি, ভমভমি বাজারে লিটল স্টার কিন্ডার গার্টেন, জিবদারা বাজারে আবাবিল ইসলামি কিন্ডার গার্টেন ও পূর্ব পাগলার রনসীতে আবাবিল কিন্ডার গার্টেনে প্রায় ৮০ জনেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারি কর্মরত আছেন। বেতন বন্ধ আছে তাদের। দরিদ্র পরিবারেরে ৬ থেকে ৭ জন লোক কর্মচারি হিসেবে কাজ করছেন এসব স্কুলে।

বন্ধ আছে তাদের বেতনও। ফলে, দূর্বিষহ হয়ে পড়েছে তাদের জীবনও। মছকু ম্যামোরিয়াল চাইল্ড কেয়ার একাডেমির সহকারি শিক্ষক ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক শাহনুর আহমেদ সুলতান বলেন, ‘আমরা খুবই সমস্যার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছি। করোনা আর বন্যায় বন্ধ আছে স্কুল। পাশাপাশি বন্ধ আছে আমাদের প্রাইভেট টিউশনিও। স্কুলের নাম মাত্র বেতন আর বাসায় বাসায় প্রাইভেট টিউশনি করে কোনো রকমে চলছিলো। এখন সব বন্ধ। চার মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় নানান সমস্যায় আছি। এই চিত্র শুধু আমার নয়, উপজেলার ১০ স্কুলের ৮০ জনেরও বেশি শিক্ষকের অভিন্ন দৃশ্য এটি।’

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নোমান আহমদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে চাকরি করছেন। তারা চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। আমরা চাই সরকার যেনো আমাদের শিক্ষকদের বিশেষ প্রনোদনা ঘোষণা করেন।’ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম লালন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের অবস্থা একেবারেই নাজুক। তারা কেউই বেতন পাচ্ছেন না। আমরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারের মাধ্যমে ইউএনও স্যারের সুদৃষ্টি কামনা করবো। এই ক্রান্তিকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে ইউএনও স্যারের মাধ্যমে সরকারের সুদৃষ্টি আমাদের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই জরুরি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে আলাদা করে এমন কিছু নেই যে তাদের পাশে দাঁড়াবো। তবে, কিন্ডার গার্টের স্কুল এ্যাসোসিয়েশন যদি ইউএনও স্যারের কাছে আবেদন করেন তাহলে আমি তাদের সাথে তাকবো এবং মানবিক কারণে হলেও তাদের সহযোগিতা করার জন্য স্যারের নিকট সুপারিশ করবো।