দক্ষিণ সুনামগঞ্জে মাস্ক ব্যবহার করছে না মানুষ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গেলো সপ্তাহে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করার জন্য পরিপত্র জারি করেছে সরকার। যদি কেউ মাস্ক ব্যবহার না করেন তাহলে শাস্তির বিধানও রাখা হয় সেই পরিপত্রে। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় মাস্ক ব্যবহার করছেন না অধিকাংশ লোকই। সব কিছু্ই চলছে আগের মতোই, স্বাভাবিকভাবে। শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা, স্বাস্থ্যবিধি মানা কিংবা মাস্ক ব্যবহারের কোনো তাগাদাই যেনো নেই এ উপজেলায়। মাস্ক ব্যবহারের বেলায় অধিকাংশ মানুষই দেখাচ্ছেন উদাসীন ভাব। এতে আশংকাজনক হারে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। বাড়ছে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকিও। এ ব্যপারে উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন এখনো পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

একাধিক ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে করোনা ভাইরাস নির্মূল হয়নি। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গড়ে প্রায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে। সুতরাং কোনোভাবেই ভাইরাসটাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। মানুষ যেভাবে অসচেতন হয়ে চলছে তাতে সংক্রমণ আরও বাড়বে। মাস্ক ব্যবহার করার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, দুই ব্যক্তির মধ্যে যিনি মাস্ক ব্যবহার করবেন তার আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা ৫০ শতাংশ। আর যদি দু’জনই মাস্ক ব্যবহার করেন তাহলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা ৫ থেকে ১০ শতাংশ। আর যদি কেউই মাস্ক ব্যবহার না করেন তাহলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। মাস্ক ব্যবহার না করলে পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাড়বে করোনা সংক্রমণ। তাই একটু কঠোর হয়ে হলেও মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে বাধ্য করতে হবে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে আইনের যথাযত প্রয়োগ করতে হবে বলে পরামর্ম দেন ডাক্তার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সচেতন মহল।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ভির বাড়াচ্ছেন মানুষ। করছেন কেনাকাটা। পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি বাজারের দৃশ্য দেখলে মনে হবে করোনা ভাইরাসের প্রবেশাধিকারেই যেনো এই এলাকায় নেই। বীরগাঁও বাজারের দৃশ্যও অভিন্ন। পাগলা বাজার ও শান্তিগঞ্জ বাজারে লোক সমাগম হয় বেশি। সড়ক ঘেঁষা বাজার হওয়ায় দু’চারজনের মুখ মাস্কে ঢেকে রাখলেও মাস্কহীন চলাফেরা করেন অধিকাংশ লোকজনই। পাথারিয়া বাজার, নোয়াখালী, আক্তাপাড়া মিনাবাজার বা বিভিন্ন গ্রামের পয়েন্টে পয়েন্টে মাস্ক ব্যবহার করা বা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই উপজেলাবাসীর। এতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে সমস্ত উপজেলা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কোনোভাবেই এড়ানো যায় না।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণ মানুষ সচেতন নন। তাদেরকে আরও সচেতন করতে হবে। আমরা এ কাজটি করছি। স্থানীয় প্রশাসনও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষকে বাধ্য করতে হবে মাস্ক ব্যবহারের জন্য। না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এদিকে আমাদের নজরে আছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে দ্রুত এব্যপারে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেবুন নাহা শাম্মী বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উপজেলার রাজস্ব খাত থেকে কিছু টাকা তুলে আমরা মাস্ক কিনে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করবো। প্রথমে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করবো। ইতোমধ্যে আমরা গণপরিবহনে মানুষকে সচেতর করার কাজটি হাতে নিয়েছি। খুব দ্রুত মাস্ক ব্যবহারে মানুষকে বুঝাবো। না বুঝলে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির প্রয়োগ করবো।’