মালয়েশিয়ার জেলে সিলেটের অসুস্থ রাজিবের দুঃসহ জীবন

বিশেষ সংবাদদাতা, মালয়েশিয়া থেকেঃ 

দেড় মাস ধরে মালয়েশিয়ার জেলে দুঃসহ সময় পার করছেন সিলেটের যুবক রাজিব আহমদ। একদিকে শারীরিক চরম অসুস্থতা, অন্যদিকে ভিসা জটিলতার মামলায় গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার জীবন। এমন সংকটকালে তার ভিসা স্পন্সর কোম্পানি কিংবা কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কেউই রাজিবের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজিব আহমদের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন বলাউড়া গ্রামে। রাজিব বছর চারেক আগে জীবিকার তাগিদে কাজের ভিসায় মালেশিয়ায় পাড়ি জমান। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক “রি-হায়ারিং” প্রোগ্রাম শুরু হলে রাজিব “Foyez Cleaning Service” নামক একটি কোম্পানীতে বৈধ কাগজ পাওয়ার লক্ষ্যে নিবন্ধন করেন। এ কোম্পানির মালিক সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার জনৈক ফয়েজ উদ্দিন। ভিসার সকল খরচ যথারীতি কোম্পানিকে পরিশোধ করেন। উল্লেখ্য, কোম্পানির কোন নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ভিসা করে দিলেও কাজের ব্যাপারে কোন প্রতিশ্রুতি দিতে না পেরে কোম্পানির কর্ণধার ফয়েজ উদ্দিন ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন সময়ে যে কোন ধরনের আইনী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে উন্মুক্ত কাজ করার তাগিদ দেন।
এদিকে করোনায় মালয়েশিয়ার লকডাউনকালীন সময়ে প্রায় চার মাস বেকার থাকার পর ৩০শে মে রাজিব জীবিকার তাগিদে এক দিনের জন্য পার্ট টাইম কাজে কুয়ালালামপুর বাংসারের একটি রেস্টুরেন্টে যান। বিধি বাম ওইদিনই পুলিশের অপারেসির শিকার হন রাজিবসহ আরোও ৪ জন। এমতাবস্থায় রাজিবের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষ তার স্পন্সর কোম্পানির কর্ণধার ফয়েজ উদ্দিনকে বিষয়টি অবগত করেন। কিন্তু ফয়েজ উদ্দিন তাকে ছাড়িয়ে আনতে কোন পদক্ষেপ নেননি। সপ্তাহ দুয়েক এর মধ্যে রাজিব ছাড়া আটক অন্যরা মুক্তিলাভ করেন। জানতে চাইলে পুলিশ জানায় রাজিবের ভিসা রেকর্ডে পাওয়া যাচ্ছে না, তার পাসপোর্টে লাগানো ভিসা ভূঁয়া বলে জানায় পুলিশ। পুলিশের এ বক্তব্যের বিষয়টি কোম্পানির মালিক ফয়েজ উদ্দিনকে জানালে উনি ভূঁয়া ভিসার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে পুলিশের সাথে আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ করতে রাজী হননি ফয়েজ উদ্দিন।
এদিকে, রাজিব আহমেদ বহুদিন ধরে লিভারের রোগে ভুগছিলেন। জেলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র।
এ অবস্থায় উপায়ন্তর না পেয়ে রাজিবের ঘনিষ্ঠ যথাক্রমে, আতিকুর রহমান বেলাল, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, লায়েক মিয়া ,পাবেল আহমদ, জোবায়ের আহমদ সহ প্রমুখ বাংলাদেশ দূতাবাসকে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেন। কিন্তু প্রায় মাস হয়ে গেলেও বিষয়টির কোন অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। ইতিমধ্যেই কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সোনাহর খান রশীদ, নুর মিয়া, এনামুল আহমেদ প্রমুখ রাজিবকে ছাড়িয়ে আনতে কোম্পানির কর্ণধার ফয়েজ উদ্দিনকে অনুরোধ করলেও তাতে সাড়া দেননি ফয়েজ।
এদিকে, ফয়েজ উদ্দিন এর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার প্রতারনার শিকার জয়নাল আবেদিন নামে এক প্রবাসী জানান, ফয়েজ উদ্দিনের কোম্পানির অধীনে ভিসা থাকার পরেও প্রায় ৩ মাস জেল খেটে তাকে দেশে ফিরতে হয়েছিল। তিনি আরোও বলেন ফয়েজ উদ্দিন রহস্যজনকভাবে তাকে জেল থেকে বের করার কোন ধরনের আইনী তৎপরতায় না গিয়ে বরং তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশনে তৎপরতা চালান। তিনি আরোও জানান, মালয়েশিয়ায় ফয়েজ উদ্দিনের কোন দৃশ্যমান ব্যবসা নেই। সাইনবোর্ড সংবলিত কোম্পানি খুলে ভিসার দালালী করেন। ভিসা নবায়নের জন্য অন্যান্য কোম্পানি যেখানে ৩০০০-৩৫০০ রিংগিত নেয় সেখানে তিনি প্রায় ৪০০০ -৪৫০০ রিংগিত হাতিয়ে নেন।
জয়নাল আবেদীন আরো জানান, অতিরিক্ত টাকা নিয়েও অবৈধ ও ভূঁয়া ভিসা লাগিয়ে দিয়ে ফয়েজ উদ্দিন বহু প্রবাসীকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছেন, যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।