লালমনিরহাটে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

ডেস্ক রিপোর্টঃ কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোটরসাইকেলে এসে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে ঢুকে পড়ে এক ব্যক্তি। এরপর মসজিদে থাকা কোরআন শরীফ অবমাননা করেন  বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে কয়েকজন। এ সময় কয়েকজন মুসল্লি তাকে আটক করেন। মুহূর্তে খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকেন।

পরে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হতে থাকে। এরপরে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে পেটাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। একপর্যায়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম আবু ইউনুস মো. শহিদুন্নবী বলে জানা গেছে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের লাইব্রেরি বিভাগের প্রধান ছিলেন। এক বছর আগে তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় তাকে এক বছর আগে অপসারণ করা হয় বলে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত শহিদুন্নবীর বাড়ি রংপুর শহরে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর ও পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শুক্রবার সকালে ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টি এম এ মমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, পুলিশের ওপর হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের দায়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন্ত কুমার মোহন্ত।