সিলেটে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দাম দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে ব্যবসায়ীদের গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও দিন দিন পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলছে। পেঁয়াজের ঝাঁজে দিশেহারা স্থানীয় ক্রেতা সাধারণ। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম দিগুণ বেড়েছে। পেঁয়াজের বাড়তি দামের জন্য আমদানিকারক সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন খুচরা বিক্রেতারা।

সিলেট নগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা যায়, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা থেকে ৪৮ টাকায় আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। অথচ কিছুদিন আগেও সিলেটের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে ২৮ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

নগরের আম্বরখানা এলাকার ব্যবসায়ী শফিক মিয়া জানান, তিনি প্রতি মাসে ১৪-১৫ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করে থাকেন। গত ১৫ দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ছিল ২০-২২ টাকা, কিন্তু গত কয়েকদিন যাবত হঠাৎ করে পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ২০-২৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী জানান, কালীঘাটের পাইকারি বাজারে দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। পাইকারি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্যে ১৫-২০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।

গতকাল রবিবার সকালে সিলেট নগরের পাইকারি বাজার কালীঘাটে ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের ৪০-৪২ টাকা পাইকারি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা পাইকারি মুল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখা গেছে।

কালীঘাটের মেসার্স চুনু মিয়া এন্ড সন্স স্বত্বাধিকারী চুনু মিয়া বলেন, আমদানিকারকরা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। তাই দাম বাড়ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি বছর সেপ্টম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারতের বেঙ্গালুর থেকে নতুন পেঁয়াজ দেশে আমদানি করা হয়। কিন্তু এ বছর সেখানে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের আবাদ মার খেয়েছে। ফলে বেঙ্গালুরের সেই নতুন পেঁয়াজটা এবার আসবে না। মূলত এ কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এখন ভারতের মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশ থেকে পুরনো পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু দাম বেশি পড়ছে। খুব তাড়াতাড়ি দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে পেঁয়াজে মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েকজন খুচরা ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হঠাৎ এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় তাঁরা বিপদে পড়েছেন। সংসার খরচে টান পড়েছে তাঁদের। তানভীর আহমদ নামে এক ক্রেতা জানান, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ থাকা সত্তে¡ও ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের চোখে ধুলো দিয়ে এবং প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।