সিলেটে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, বিপাকে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র ছয় ঘণ্টায় সিলেটে নগরীতে ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর সেই বৃষ্টির পানিতে সিলেট নগরী সয়লাব। ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়ে শ্রাবণের বারিধারা কেউ আশা করেনি। কিন্তু গত কয়েকদিন থেকে তাই চলছে। সিলেট আবহাওয়া অফিস মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

সামান্য বৃষ্টিতে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। তাদের অভিযোগ- বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলায় তাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সোমবার মধ্যরাতে হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর সুবিদবাজার, বনকলাপাড়া, হাউজিং এস্টেট, জালালাবাদ, লোহারপাড়া, বাগবাড়ি, চারাদীঘিরপাড়, হাওয়াপাড়া, বারুতখানা, সোবহানীঘাট, কলবাখানি, কুয়ারপাড়, কাজলশাহ, পাঠানটুলা, খোজারখলা, ভার্থখলা, মেনিখলা, বারখলা, পাঠানপাড়াসহ অধিকাংশ এলাকার প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া নগরীর দাড়িয়াপাড়া, জামতলা, চৌহাট্টার সড়ক ও জনপথ অফিসের সামনে, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, ছড়ারপাড়, পুরানলেন, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, ভাতালিয়া, উপশহরসহ প্রায় ৫০টি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম বিপাকে পড়েন নগরবাসী।

নগরীর চৌহাট্টার সড়ক ও জনপথ অফিসের সামনে মঙ্গলবার সকালে জলাবদ্ধতায় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি, সিএনজি, মোটরবাইক পথিমধ্যে বিকল হতে দেখা যায়। এ সময় সিএনজিচালক হোসেন আলী বলেন, প্রায় ১১ বছর সিএনজি চালাই। প্রতিবছরই বৃষ্টির সময় রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সিটি করপোরেশন অনেক স্থানের ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করেনা বিধায় জলাবদ্ধতা তীব্র হয়। ময়লা আবর্জনায় ড্রেন ভরাট। নোংরা পানি উপচে পড়ে সড়কের ওপর দিয়ে। যার কারণে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেশি বৃদ্ধি পায়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঠানটুলা ও লন্ডনীরোডের চিত্র বৃষ্টি হলেই ভয়াবহ রূপ নেয়।

জামতলার বাসিন্দা পিনাক রায় জানান, এক ঘণ্টা মাঝারি ধরনের বৃষ্টিতে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে নর্দমার নোংরা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে সেই জলাবদ্ধতা।

নগরবাসীর অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর সিসিকের উন্নয়ন কাজের কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় নগরীর বিভিন্ন সড়কে। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা-এটা মানতে নারাজ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের সব কটি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। পুরনো ড্রেনগুলো ভেঙে পানির সহজ নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ড্রেনগুলোর গভীরতা ও পাশে বড় করে তৈরি করেছে সিসিক। এ ছাড়া সিসিক প্রতিনিয়ত ড্রেন, নালা পরিষ্কার করছে জানিয়ে তিনি নাগরিকদের আরও সচেতন হয়ে যথাস্থানে ময়লা ফেলা ও ডাস্টবিন ব্যবহারের আহ্বান জানান।